ভাঙ্গা-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৬ লেন মহাসড়ক দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার দক্ষিণাঞ্চল
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী হয়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি সংকীর্ণ রয়ে গেছে। দুই লেনের এ মহাসড়কে প্রতিদিন যানবাহনের তীব্র চাপ, যানজট এবং ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিকে দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পুরোপুরি পেতে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানের সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটির কারণে দূরত্ব অনুযায়ী যে সময় লাগার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং পর্যটকবাহী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
আন্দোলন ও সর্বস্তরের মানুষের দাবি প্রকল্পটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনার বিভিন্ন স্থানে নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সমিতি এবং সাধারণ মানুষ মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ২ লেনের সরু রাস্তায় ওভারটেকিংয়ের সময় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। ৬ লেনে উন্নীত করা হলে পৃথক লেন ও সার্ভিস রোডের সুবিধা থাকবে, যা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা অপরিহার্য। ২০১৮ সালে প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদনের পর জমি অধিগ্রহণ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতা ও অর্থসংকটে মূল নির্মাণকাজ কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। তবে সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

