তিন আইন মিলিয়ে এক ছাতায় আসছে আনসার বাহিনী, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০১ অক্টোবর ২০২৬ ২:০৫ পিএম
তিন আইন মিলিয়ে এক ছাতায় আসছে আনসার বাহিনী, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব কার্যক্রম একটি একক আইনের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে বাহিনীটিকে নিয়ন্ত্রণকারী তিনটি আলাদা আইন একীভূত করে একটি সমন্বিত আনসার বাহিনী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্বোধনের পর তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাহিনীটি এ মুহূর্তে আনসার বাহিনী আইন ১৯৯৫, আনসার ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৩ এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন ১৯৯৫—এই তিন আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোকে এক করে নতুন আইন ও তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং পরিচালনা-নিয়ন্ত্রণ অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেখানে বহুতল ভবন ও আধুনিক কমান্ড সেন্টার থেকে অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা চালানো সম্ভব হবে।

বাহিনীর ইতিহাস স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনের ধারাবাহিকতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটে, তারই ফসল আজকের আনসার ও ভিডিপি—যা দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণীত হয় এবং ২০০৪ সালে বাহিনীকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় আধুনিক অবকাঠামো ও আইনি সংস্কারের এই প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান রোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমে বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, সঞ্জীবন প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক সংযোগ ও প্রান্তিক শক্তি কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন, যা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...