প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার পেলেন বগুড়ার বিপ্লব

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৫০ এএম
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার পেলেন বগুড়ার বিপ্লব

মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ ও আর্থিক অনুদান পেয়েছেন বগুড়ার সমাজসেবক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা ও অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সবার আগে যুবসমাজকেই পালন করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ এই চেতনা বুকে ধারণ করেই তরুণদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় অবদানের জন্য দেশের ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠনের প্রতিনিধি সম্মানিত হন। প্রত্যেককে দেওয়া হয় এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র। এছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে গতিময় করতে দেশের ৪৩২টি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৬৪টি জেলার যুব স্বেচ্ছাসেবকরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর আতিকুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েই তিনি সেবামূলক কাজে যুক্ত হয়েছেন। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে এলাকার বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেওয়া এবং দরিদ্র, অসচ্ছল ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি তার সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বগুড়ার গাবতলী ও আশপাশের এলাকায় বহুমুখী সমাজসেবায় সম্পৃক্ত এই তরুণ নেতা। ২০০৯ সালে তিনি গড়ে তোলেন করিমপাড়া জনকল্যাণ যুব সংঘ, যা ২০১৬ সালে নাম বদলে হয় জামিরবাড়িয়া হাট জনকল্যাণ যুব সংঘ। ২০২৫ সালে সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশনও পান তিনি। এই সংগঠনের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি বেকার যুবকদের মৎস্যচাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুলেছেন তিনি। জামিরবাড়িয়া হাট গ্রামকে বায়োগ্যাস পল্লীতে রূপান্তর, নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যবস্থা, মাদরাসায় বই ও আল-কোরআন বিতরণ, গরমে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি ও মসজিদে ফ্যান প্রদানের মতো উদ্যোগও তার কর্মতালিকায় রয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত শিশু বিপুলকে সহযোগিতা, প্যারালাইসিস রোগীদের খাদ্য সহায়তা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং করোনাকালে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণেও পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তার সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী ও সহযোগীরা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...