নকল-ভেজালের বিরুদ্ধে ৪২ জেলায় একযোগে অভিযান, জরিমানা ১০৪ প্রতিষ্ঠানের

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৫৯ এএম
নকল-ভেজালের বিরুদ্ধে ৪২ জেলায় একযোগে অভিযান, জরিমানা ১০৪ প্রতিষ্ঠানের

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অযৌক্তিক দাম ও ভেজাল ঠেকাতে দেশের ৪২ জেলায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে সব মিলিয়ে ৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে অধিদপ্তরের ৫৪টি তদারকি টিম কাজ পরিচালনা করে।

তদারকির সময় মূল্যতালিকা প্রদর্শন, কেনাবেচার ভাউচার সংরক্ষণ, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি এবং ওজন-পরিমাপে সঠিকতা মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান ও চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় বিশেষ তদারকি চালান ঢাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা এবং মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এখানে দেশে তৈরি মোটরসাইকেলের তালা বিদেশি পণ্য দাবি করে মোড়কজাত করার ঘটনা ধরা পড়ে। কারখানা অনুমোদনের কাগজপত্রও দেখাতে না পারায় ওই প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেয়াদোত্তীর্ণ রং ব্যবহার করে কেক তৈরির দায়ে একটি বেকারিকে ৩০ হাজার টাকা এবং মেয়াদ পেরোনো ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একটি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় প্রতিরোধে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো, ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান এবং সঠিক ওজনে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। তদারকি কার্যক্রমে সহায়তা দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা।

ভোক্তাদের প্রতি পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ মিলিয়ে নেওয়ার এবং কেনাকাটা শেষে বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতারণা বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষা ও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...