সম্পর্ক পুনর্গঠনে বাংলাদেশের জনমত বুঝতে হবে ভারতকে: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১:০৪ এএম
সম্পর্ক পুনর্গঠনে বাংলাদেশের জনমত বুঝতে হবে ভারতকে: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে দাঁড় করাতে চাইলে ভারতকে প্রথমে এ দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব ও চাহিদা বুঝতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আরও সুস্পষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তার আশঙ্কা, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের পথকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থ ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র–চীন ও চীন–ভারত ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ ছিল আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য। প্যানেলে ছিলেন দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরোম সি. গ্লেন এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিসের সঞ্চালনায় বইয়ের লেখকসহ সাংবাদিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট অতিথিরা আলোচনায় যুক্ত হন।

মুশফিকুল ফজল আনসারীর বক্তব্য, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়তে হয় একটি দেশের জনগণের সঙ্গে—তা কখনো কোনো একক নেতা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবনে ভারতকে তাই আরও তৎপর হতে হবে। দেশে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে; মানুষ চায় রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কণ্ঠস্বর ও প্রত্যাশা প্রতিফলিত হোক।

বাংলাদেশের প্রতি চীনের সহযোগিতামূলক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে এই কূটনীতিক বলেন, উন্নয়ন ও মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে এই অংশীদারত্ব কাজে লাগানো প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লালগালিচা অভ্যর্থনাকে তিনি সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্বেরই ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন; বড় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিরাও স্বীকার করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তা, আর দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই মনোভাব দরকার। আনসারী কঠোরভাবে বলেন, ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব সম্প্রসারণের পক্ষে তিনি, তবে তা হতে হবে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে। নিজ জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাংলাদেশের অবশ্যই থাকতে হবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...