সাশ্রয়ের নির্দেশনায় চিড় ধরেনি: জুলাইয়ে জ্বালানি খরচ বেড়েছে সোয়া লাখ টাকা
জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার সরকারি নির্দেশনা জারির পরও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং চলতি বছরের জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি খরচ মার্চের তুলনায় প্রায় সোয়া লাখ টাকা বেশি হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দেওয়া নির্দেশনা পুরোপুরি অগ্রাহ্য হয়েছে বলেই ধরা যাচ্ছে এমন চিত্র।
গত ৫ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানির অপচয় রোধে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং সব নাগরিককে জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপিত হিসাব বলছে, সেই সাশ্রয় মিশনের প্রভাব এ খাতে এখনো পড়েনি।
মন্ত্রণালয়ের তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, জানুয়ারিতে জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ২ লাখ ২৯ হাজার ২৫৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬২৩ টাকায় এবং মার্চে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৫ টাকায় নেমে আসে। তবে এপ্রিলে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৪ টাকা, মে মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৬ টাকা এবং জুনে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৩ টাকা খরচ হয়। বছরের সর্বোচ্চ ব্যয় রেকর্ড হয়েছে জুলাইয়ে, যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৯ টাকা ৭৩ পয়সা। অর্থাৎ মার্চের চেয়ে জুলাইয়ে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আর জুনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২ হাজার ৩২৬ টাকা।
মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ১১টি জিপ, ৬টি মাইক্রোবাস, ২টি মোটরসাইকেল ও একটি জেনারেটরে জ্বালানি খাটানো হয়। এ দপ্তরেও মাসভেদে খরচে ওঠানামা চলছে; মার্চে ব্যয় হয় ১৮ লাখ ৭ হাজার ৮২৯ টাকা, যেখানে জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ২১৯ টাকা। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই চিত্র—জুনে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৫৭ টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৯৭ টাকায়।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্দেশনা জারির পর প্রায় পাঁচ মাসেও যুব ও ক্রীড়া খাতে জ্বালানি ব্যয় কমার লক্ষণ নেই। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে সরকারের সাশ্রয় মিশনের সঙ্গে এই ঊর্ধ্বমুখী খরচের ধারা যেন সরাসরি সাংঘর্ষিক, তাই দপ্তরগুলোর ব্যয়ের দিকে বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

