সংসদে তারেক রহমান: গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ধৈর্য, রাজনীতিতে শালীনতা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৩ এএম
সংসদে তারেক রহমান: গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ধৈর্য, রাজনীতিতে শালীনতা

রাজনীতিতে শিষ্টাচার রক্ষা ও বক্তব্যে রুচিশীলতার জোর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে শব্দ বা ভাষা নিজের পরিবারে ব্যবহারে আমরা অস্বস্তি বোধ করি, সেটি জনসমক্ষে ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না। গালিগালাজের অপসংস্কৃতি ত্যাগ করে বিরোধী মহলসহ সকলকে গঠনমূলক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার কাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থনৈতিক ইতিহাস ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের জুনে দেশকে দুর্নীতিতে শীর্ষে রেখে জুলাই মাসে ক্ষমতা ছাড়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। এরপর জনগণ বিএনপিতে ভরসা রাখে এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করে। কিন্তু ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জনগণের মৌলিক অধিকার সীমিত করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছেড়ে পালানোর আগ পর্যন্ত দুঃশাসন, লুটপাট ও অর্থপাচারে বাংলাদেশ ঋণখেলাপির অপবাদে ডুবে যায়। তিনি জানান, পতিত সরকার ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ মাত্র ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল, অথচ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা কার্যকর পদক্ষেপে সেই অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে, যা নিয়ে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়াদের রেখে যাওয়া ঋণের দায় চেপে বসেছে সাধারণ জনগণের ওপর। তবু ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেও বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, দেশে এখন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে, বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে; তবে এই স্বাধীনতায় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের চলমান সংকটে জনগণের কাছে সাময়িক ধৈর্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর নিজস্ব বিভেদ ও বিরোধ বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তির পুনর্জীবনের পথ সুগম করতে পারে। তাই শহীদদের রক্তের ঋণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায় শোধ করতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। শেষে অধিবেশন সুচারুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সব সংসদ সদস্য, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...