কাগজে সারের মজুত, মাঠে কৃষকের হাহাকার: সংসদে শফিকুল ইসলামের বিস্ফোরণ
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে দেশে সারের সরকারি মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকটে মাঠপর্যায়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন কৃষকরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুচ্ছেদ ৬৮-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই এমপি বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ডিলার পর্যায়ে কড়া নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও কৃষকের হাতে সার পৌঁছাচ্ছে না এবং দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। মানবজমিনের ৮ সেপ্টেম্বরের সংবাদে একাধিক স্থানে সার ঘিরে অবরোধ ও বিশৃঙ্খলার খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি। জয়পুরহাটে প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কোথাও কোথাও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। ২০০১-২০০৬ সালের পরিস্থিতির কথা টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, সে সময় এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল, আবারও সেই সিনড্রোমে দেশকে ঠেলে দিতে চান না তিনি।
ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও কঠোর প্রশ্ন তোলেন শফিকুল ইসলাম। তার ভাষায়, জেলা প্রশাসক বা ইউএনওর কাছে এমপির দেওয়া তালিকা পাশ কাটিয়ে ভেতরের চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া অনেকে নিজের স্ত্রী, সন্তান বা স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ রেখে কোটি টাকার চাঁদাবাজি করছেন, আবার অনেক ডিলার ব্যবসা না করে শুধু কমিশন নিচ্ছেন। সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে সার সংকটের সমাধান কীভাবে সম্ভব বলেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
সীমান্তে সার পাচারের তথ্যও সংসদে তুলে ধরেন এই এমপি। কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২ হাজার ১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংকটে অস্থির হয়ে কৃষকরা একটি গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছেন। উখিয়া ও টেকনাফে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, প্রভাবশালী চক্র ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে কৃষক পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, নাড়া কাটা, কলাই তোলা ও বাবার সঙ্গে আগাছা পরিষ্কারের অভিজ্ঞতা তার আছে, সেই দরদ থেকেই তিনি কথা বলছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বোরো মৌসুমের আগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের কৃষি আবার বড় বিপদে পড়বে।

