কাগজে সার আছে, মাঠে সংকট: ডিলার নিয়োগে লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ সংসদে

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:৫০ এএম
কাগজে সার আছে, মাঠে সংকট: ডিলার নিয়োগে লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ সংসদে

কাগজে-কলমে সারের মজুত যথেষ্ট দেখালেও ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে তা কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। ফলে বোরো মৌসুম ঘিরে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা চরম সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই সংসদ সদস্য জানান, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও কৃষক সার কিনতে পারছেন না। জয়পুরহাটে প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কোথাও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে বলেও সংসদে তথ্য উঠে আসে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের কথা মনে পড়ছে, যখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সংকটের মধ্যেই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউন ভর্তি থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে শফিকুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় এমপি কর্তৃক দেওয়া তালিকা পাশ কাটিয়ে একটি ভেতরের চক্র প্রতি ডিলারশিপের জন্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার লেনদেন করছে। অনেক ডিলার ব্যবসা না করে শুধু কমিশন আদায় করছেন, কেউ কেউ নিজের, স্ত্রীর, ছেলের ও স্বজনদের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। নিজেকে কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা কৃষকের ঘাম ও রক্তে উপার্জিত। তিনি আরও বলেন, এমপি পদ ছেড়ে কৃষকদের সঙ্গে ক্ষেতে নামতে পারলে নিজেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

সার পাচার নিয়েও উদ্বেগ জানান এই সংসদ সদস্য। তার তথ্যমতে, কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধ মজুত থেকে ২ হাজার ১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে, অন্যদিকে গোডাউন ভেঙে কৃষকরা নিয়ে গেছে ১০ হাজার কেজি সার, যা পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতারই নির্দেশক। ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলেও তিনি জানান। উখিয়া ও টেকনাফ সফরে প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রভাবশালী চক্র পাচারকৃত সারের বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বোরো মৌসুমের আগেই ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...