সারের ঘাটতির অভিযোগ ভিত্তিহীন, মজুত আছে পর্যাপ্ত: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:০১ এএম
সারের ঘাটতির অভিযোগ ভিত্তিহীন, মজুত আছে পর্যাপ্ত: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের কৃষিকাজে সারের অপ্রতুলতা কিংবা তা থেকে ভবিষ্যতে খাদ্যশস্যের সংকট আসবে—এমন সব অভিযোগ মোটেই ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দিতে সরকার যথেষ্ট উৎপাদন, আমদানি ও সুরক্ষিত মজুত নিশ্চিত করেছে বলেও তিনি জানান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন এই প্রতিমন্ত্রী। এর আগে সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারের সংকট ও সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতির বিষয়টি সংসদে তোলেন। প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও মজুদের দায়িত্ব পালন করে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৮ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়েছে এবং আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে সারাদেশে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া বিতরণ করা হয়েছে, আর মজুদ রয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন। আসন্ন পিক ও মিনি পিক মৌসুমে যাতে কৃষকরা সারের অভাবে পড়েন না, সেজন্য কারখানার উৎপাদন ও বিদেশ থেকে আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া, একটি টিএসপি ও একটি ডিএপি সার উৎপাদন করে। বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার এবং সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড পুনরায় চালুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কাঁচামাল ও গ্যাস সরবরাহের জটিলতায় যমুনা ফার্টিলাইজার, ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি এবং টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ৮৮ হাজার ও অক্টোবরে ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত অর্থবছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ইউরিয়া, ৬৮ হাজারের বেশি টিএসপি ও ৮২ হাজারের বেশি ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে। একই সময়ে ১৪ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি এবং ২৫ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ইউরিয়া বিতরণ করা হয়েছে। এই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি দাবি করেন, সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই এবং কৃষকদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিরোধী দলের সদস্যদের গঠনমূলক পরামর্শ সরকার সাদরে গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করেছিলেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল কাটা কর্মসূচি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং সামাজিক ও ধর্মীয় ভাতা প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...