মাঠে সার নেই, ডিলার নিয়োগে ১০-১২ লাখ টাকার বাণিজ্য: সংসদে অভিযোগ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:৫২ এএম
মাঠে সার নেই, ডিলার নিয়োগে ১০-১২ লাখ টাকার বাণিজ্য: সংসদে অভিযোগ

কাগজে-কলমে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে কৃষক তীব্র সংকটে ভুগছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য বলেন, সারের কৃত্রিম সংকটের সঙ্গে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদন তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও কৃষক সার পাচ্ছেন না। এ রিপোর্ট কোনো বিরোধী শক্তির নয় বলে জোর দেন তিনি। সরকারের মজুত থাকলেও দেশে আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই সিনড্রোম ফিরছে বলে মনে করেন তিনি, যখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ছয়টি বন্ধ রয়েছে বলেও রিপোর্ট আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মানবজমিনের ৮ সেপ্টেম্বরের খবর অনুযায়ী সার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ও বিভিন্ন স্থানে অবরোধের ঘটনা ঘটছে। জয়পুরহাটে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, এমনকি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের পরও ৩০০ বিধিতে কাউকে কথা বলতে দেখেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর দাবি করে এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁর এলাকায় এমপি, ডিসি বা ইউএনওর তালিকা পাশ কাটিয়ে ভেতরের একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নিয়োগের কাজ করছে। যুগান্তরের রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ডিলার ব্যবসা না করে শুধু কমিশন নেন; একজন ডিলার নিজের, স্ত্রীর, ছেলের বা স্বজনদের নামে ডিলারশিপ নিয়ে রাখছেন এবং সেখানে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। নিজের কৃষক পরিচয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন কৃষক, আমি নাড়া কেটেছি, কলাই তুলেছি, বাবার সঙ্গে ঘাস ও আগাছা তুলতে গিয়েছি।’ এসব অর্থ কৃষকের ঘাম ও রক্তে উপার্জিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপি পদ ছেড়ে কৃষকদের সঙ্গে ক্ষেতে নামতে পারলে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

সার পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়ে শফিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ২ হাজার ১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে। অন্যদিকে সার না পেয়ে কৃষকরা গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছেন, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ারই প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি। ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফ সফরে প্রান্তিক মানুষ জানিয়েছেন, প্রভাবশালী চক্র সার পাচারের বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ‘ভর্তুকির বদলে দেশে ফেরত আসছে বিষ’ বলে মন্তব্য করে তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...