মাত্র ২৩ টাকার ট্যাক্স টোকেন, ডুপ্লিকেট পেতে জিডি ঘুরে আড়াই ঘণ্টা
হারানো ট্যাক্স টোকেনের ডুপ্লিকেট কপি হাতে পেতে মেনে নিতে হয়েছে দীর্ঘ ভোগান্তি। প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), এরপর ট্রাফিক বিভাগের কার্যালয় ঘুরে যেতে হয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দরজায়। মাত্র ২৩ টাকা ফি জমা দিতে প্রায় একশোজনের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত কাগজটি।
ভুক্তভোগী রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান (ছদ্মনাম)। ২০১৮ সালে ইয়ামাহা ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেল কেনার সময় ব্লু-বুক ও ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনসহ সব কাগজপত্রের বিল পরিশোধ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি অফিসে যাওয়ার পথে ট্যাক্স টোকেনের কাগজটি হারিয়ে ফেলেন। ডিজিটাল যুগে হারানো কাগজের বিকল্প সহজেই মিলবে ভেবেছিলেন, কিন্তু নানা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল প্রথমে থানায় জিডি এবং পরে ট্রাফিক অফিসের কাগজসহ বিআরটিএতে যেতে হবে।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিডির জন্য নিউমার্কেট থানায় যান তিনি। কম্পিউটারে কম্পোজ করা আবেদনের প্রিন্ট সঙ্গে নিয়ে গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অনলাইনেই জিডি করতে হবে। থানার কম্পিউটারে সে মুহূর্তে জিডি করা সম্ভব নয় জানিয়ে নীলক্ষেতের একটি কম্পিউটারের দোকানের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে জিডির আবেদন কম্পোজ ও প্রিন্টের জন্য চাওয়া হয় ২০০ টাকা। ফরম পূরণের সময় ১০ বছর আগে ট্যাক্স টোকেনের টাকা কোন ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন—সেটিও জানতে চাওয়া হয়। বহু খোঁজাখুঁজির পর ব্যাংকের নাম মিলিয়ে তবেই ফরম পূরণ সম্ভব হয় তার।
পরদিন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে ২৩ টাকা ফি জমা দিতে দাঁড়াতে হয় প্রায় ১০০ জনের পেছনে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানে ডুপ্লিকেট ট্যাক্স টোকেন পেলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে একটি হারানো কাগজের ডুপ্লিকেট পেতে এত দপ্তর ঘোরা আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কেন, তা নিয়ে ভাবনার জায়গা অনেক।

