বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকার ঢাকার সড়ক, রাতে চলাচলে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
জাতীয় গ্রিডে জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎকাটের তীব্রতা বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর রাস্তায়ও। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিভে থাকছে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের বাতি। ফলে সন্ধ্যার পর বড় বড় এলাকা ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারে, যা পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তির পাশাপাশি তৈরি করছে দুর্ঘটনা ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার একাধিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্র প্রত্যক্ষ করা যায়। ব্যস্ত মহাসড়ক থেকে শুরু করে সরু অলিগলি—বিদ্যুৎ চলে গেলেই বন্ধ হয়ে যায় পথের আলো। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাঁটাবন এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে এলিফ্যান্ট রোডের সড়কবাতিও নিভে যায়; দীর্ঘসময় ওই অংশ থাকে পুরোপুরি অন্ধকারে।
ওইসময় হাঁটা পথচারী আবু হাকিম অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে গাড়ির আলো ছাড়া রাস্তায় আর কিছুই চোখে পড়ে না। সামনে কে আসছে কিংবা কোথায় গর্ত আছে, তা বোঝার উপায় থাকে না। অন্ধকারের সুযোগে কারো মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালক নোমান আলীর ভাষ্য, বাতি বন্ধ থাকলে রাস্তার অবস্থা ঠিকমতো দেখা যায় না; হঠাৎ পথচারী বা রিকশা সামনে চলে এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
নগরবাসীর প্রশ্ন, রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করাই তো সড়কবাতির মূল উদ্দেশ্য; কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রাতের শহর এই অন্ধকার-ভোগান্তি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

