জাল সনদে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি নিলে যাবজ্জীবন, ফেরতও দিতে হবে টাকা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:০৮ পিএম
জাল সনদে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি নিলে যাবজ্জীবন, ফেরতও দিতে হবে টাকা

ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সরকার চালু করা মাসিক সম্মানির ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য বা জাল সনদ দেখিয়ে এই সম্মানি গ্রহণ করলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।

‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০২৬’ নামে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর পূর্বে ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে কর্মরতদের জন্য এই সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করা কর্মসূচিটি চলতি অর্থবছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এটি এখন আইনগত কাঠামো পেয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য বা জাল সনদের মাধ্যমে সম্মানি আদায় করলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরে উদ্বুদ্ধ করার অপরাধে ৪২০ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা মূল্যবান জামানত জাল করার দায়ে ৪৬৭ ধারায় যাবজ্জীবন কিংবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে দলিল জাল করলে ৪৬৮ ধারায় শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত, আর জাল দলিলকে প্রকৃত হিসেবে ব্যবহার করলে ৪৭১ ধারায় সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির জন্য নির্ধারিত একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ জালিয়াতির প্রকৃতি বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে গৃহীত সম্মানির অর্থ ‘সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩’ অনুসরণে কোষাগারে ফেরত আনা হবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...