বাংলাদেশে গুগল অফিস স্থাপনে জটিলতা, ভবিষ্যতে বিবেচনার আশ্বাস
বাংলাদেশে গুগলের স্থানীয় অফিস গড়ে তোলার পথে এই মুহূর্তে কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়েছে প্রযুক্তি খাতের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি সদর দপ্তরে গুগলের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পাবলিক পলিসি প্রধান কাইল গার্ডনারের সঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর (অব.) এর বৈঠকে এমন আশ্বাসই আসে।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশে গুগলের সেবা কার্যক্রম বিস্তার, পেমেন্ট সিস্টেম চালু এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলাপ করে। পাশাপাশি বিটিআরসির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও সুসংহত করার ওপর জোর দেন গুগল প্রতিনিধি। দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় এখানে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া এবং স্থানীয় অফিস স্থাপনের আহ্বান জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
সাক্ষাতে বাংলাদেশে এআই মডেলের ল্যাব স্থাপন, দেশি প্রকৌশীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিকাশ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো এবং এ খাতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে গুগল কোনো আলাদা সেবা চালু করবে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে গুগলের প্রতিনিধি জানান, সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
অন্যদিকে গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার কার্যকর ব্যবস্থা এবং দেশে স্থানীয় পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বিটিআরসির পক্ষ থেকে। জুয়া, বেটিং বা অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের প্রচারে গুগল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার ঠেকাতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান চেয়ারম্যান। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও অপসারণের কারিগরি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের সঙ্গে গুগলের কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলে বহুমুখী সহযোগিতার পরিসর সম্প্রসারণের পরামর্শও দেওয়া হয় বিটিআরসির পক্ষ থেকে।

