বাবা-মার ভরণপোষণ আইন কঠোর করার দাবিতে রুমিন ফারহানার চার দফা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:০৫ পিএম
বাবা-মার ভরণপোষণ আইন কঠোর করার দাবিতে রুমিন ফারহানার চার দফা

বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের অবহেলা মোকাবিলায় দেশের বিদ্যমান ভরণপোষণ আইনকে আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আইনটির কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান এই সংসদ সদস্য।

প্রস্তাব উত্থাপনের আগে পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের একটি আয়াত পাঠ করেন রুমিন ফারহানা। আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা আমার ইবাদত করো এবং তোমার পিতা-মাতার খেদমত করো। যদি তাদের একজন কিংবা উভয়ই তোমার বেঁচে থাকা অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না।”

দেশের সামাজিক বাস্তবতার নিন্দা করে তিনি বলেন, অনেক সন্তান বিশাল দালানকোঠার মালিক হওয়ার পরও বাবা-মায়ের সম্পত্তি দখলে নেয়। চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার পর বার্ধক্যে উপনীত পিতা-মাতার ভাগ্যে জোটে বহুতল ভবনের এক কোণ কিংবা বৃদ্ধাশ্রমের জীবন। এমন ঘটনা কারও আত্মাকে মর্মান্তিকভাবে ভেঙে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে রুমিন ফারহানার চার দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—ভরণপোষণে অবহেলা করলে দানপত্র বাতিলের একতরফা অধিকার আইনে দেওয়া; ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিধান সংযোজন করা, যাতে সন্তানের অবহেলা বা নির্যাতনের ক্ষেত্রে দাতা এককভাবে পারিবারিক আদালতে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন; সন্তান যেন তৃতীয় পক্ষের কাছে জমি বন্ধক রেখে বাবা-মায়ের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে বা তাঁদের ঘর থেকে বের করে দিতে না পারে, সেজন্য কড়াকড়ি আরোপ; এবং দাতার জীবদ্দশায় তাঁর লিখিত সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা।

তিনি প্রত্যাশা করেন, এই সুপারিশগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত হলে বৃদ্ধ পিতা-মাতার নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং সন্তানের অবহেলার সংস্কৃতি থামতে সহায়ক হবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...