সন্তানের খোঁজে ৪০ পরিবার: নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ চাই
দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৪০টি পরিবার রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে একত্রিত হয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে। ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিখোঁজ শিশুদের অবিলম্বে সন্ধান, নিরাপদে ঘরে ফেরানো এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলো পুনরায় তদন্তের দাবি তোলা হয়।
জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলো এই আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. সাদাত রহমান উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, অনেক পরিবারের সন্তান মাসের পর মাস, কেউ বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ। সন্তানের অপেক্ষায় কাটানো দিনের যন্ত্রণা ও প্রতারিত অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা মঞ্চে তুলে ধরেন অভিভাবকরা।
স্বজনরা অভিযোগ করেন, সন্তান হারানোর পর তারা বছরের পর বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নানা মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ফল মেলেনি। ফলে আক্রান্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে, অনেক ঘটনা রহস্যজনকভাবে রয়ে গেছে অমীমাংসিত। এ প্রেক্ষাপটে তারা শিশু নিখোঁজ ও পাচার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা, অমীমাংসিত ঘটনার অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ হয়ে হত্যার পর অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সহায়তায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হয়। বর্তমানে এই ব্যবস্থা দেশজুড়ে শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে অনুষ্ঠানে অবহিত করা হয়।
সন্তানহারা পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করে দেশের প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর অনুসন্ধান নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো মা-বাবাকে আর ‘আমার সন্তান কোথায়?’ প্রশ্ন তুলতে না হয়।

