মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটারে গাড়ির সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম দুর্ভোগে লাখো যাত্রী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১২:১১ এএম
মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটারে গাড়ির সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম দুর্ভোগে লাখো যাত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক ধীরগতি আর দীর্ঘ যানজটে নাভিশ্বাস হারিয়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা। শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই যানজট শনিবারও অব্যাহত থাকায় কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর পর্যন্ত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার দুশ্চিন্তায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ার চর সেতুর ঢাকামুখী লেনে জরুরি সংস্কার কাজ চলছে। সেতুতে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে শুক্রবার সকাল থেকে এক লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সীমিত জায়গা দিয়ে গাড়ি চলাচল করায় অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা টোলপ্লাজা ও ইলিয়টগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিক সময়ে ১-১.৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়।

ভুক্তভোগীরা জানান, চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে তাদের। দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় আটকে পড়া যাত্রী খন্দকার আরিফ হোসেন জানান, কুমিল্লা থেকে সকালে রওনা হয়ে চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ আসতে তার চার ঘণ্টা লেগেছে। এই গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে আসা মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, দুপুর ১২টায় বের হয়ে দাউদকান্দির আগেই আটকে গেছেন। গাড়ির চাকা একটু একটু করে ঘোরে, বেশিরভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাথরুমের সুবিধা না পাওয়ায় নারী যাত্রী ও শিশুদের ভোগান্তি আরও বেশি।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে বা অন্য যানবাহনের খোঁজে বের হচ্ছেন। শিশুদের কান্না ও অসুস্থ মানুষের আর্তনাদে মহাসড়কের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...