অতিবৃষ্টিতে ডুবে গেল চট্টগ্রাম, বেড়েছে যানবাহনের ভাড়া ও দুর্ভোগ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৮ জুলাই ২০২৬ ৭:০৫ এএম
অতিবৃষ্টিতে ডুবে গেল চট্টগ্রাম, বেড়েছে যানবাহনের ভাড়া ও দুর্ভোগ

গত চার দশকের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। টানা অতি ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায় এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পানি আর সড়কের কোনো পার্থক্য না থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এর মধ্যে সুযোগ নিয়ে সিএনজি, রিকশা ও ভাড়ায়চালিত যানবাহনের চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেই নগরীর সিটি গেট, আগ্রাবাদ, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও পতেঙ্গা এলাকায় পানি জমে যায়। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানির কারণে ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার পানিতে বিকল হয়ে রাস্তার মাঝেই আটকা পড়ে। নিচু এলাকার বসতবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পণ্য ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যানবাহনের অপ্রতুলতার সুযোগ নিয়ে চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। চকবাজার থেকে আগ্রাবাদগামী সরকারি কর্মকর্তা রণি পাল জানান, প্রতিদিন ৩০০ টাকা ভাড়ায় যে পথে যাতায়াত করেন, আজ সেখানে ৮০০ টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়েই তাকে এই অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে বহদ্দারহাট এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আসমা আক্তার বলেন, সন্তানের পরীক্ষার কারণে যেকোনোভাবে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। রিকশা না পেয়ে সিএনজি নিতে বাধ্য হন তিনি এবং তাকে স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় তিনগুণ টাকা গুনতে হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাসস্টপে দেখা যায়, অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও যানবাহন পাচ্ছেন না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে চালকরা যাত্রী তুলতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে পুরো নগরীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...