চরাঞ্চলে খাসজমি লুট রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভোলায় যাচ্ছেন ভূমিমন্ত্রী
দেশের চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জোর করে জমি দখলের প্রথা বন্ধ করতে কঠোর অবস্থানে সরকার। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোনো প্রভাবশালী বা বিত্তশালী আর খাসজমি বেআইনিভাবে বুঝে নিতে পারবে না। এই অনিয়ম রোধে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরায় খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সংসদে তিনি এই সফরে স্পিকারকেও আমন্ত্রণ জানান।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী। এ সময় তিনি এমপি নূরুল ইসলামের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকার খাসজমি উদ্ধার ও বন্দোবস্তকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ইতোমধ্যে সারা দেশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি নূরুল ইসলামকে যুবসমাজের প্রতিবাদী আইকন লিডার হিসেবে অভিহিত করেন।
সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সারাদেশে প্রায় ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ একর খাসজমি থাকলেও তার বড় অংশটি প্রভাবশালীদের দখলে। বিশেষ করে চরফ্যাশন ও মনপুরায় গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অসৎ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে বাস্তুহারা মানুষের জমি আত্মসাৎ করেছে। জবাবে মন্ত্রী ওই এলাকার প্রকৃত অবস্থা দেখে স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় স্পিকার সব এমপিকে নিজ এলাকায় খাসজমি উদ্ধারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় সুযোগ হলে ভূমিমন্ত্রীর সফরে তিনিও যোগ দেবেন।

