সাভার সিইটিপি আধুনিকায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ, রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পকে ঘুরে দাঁড় করাতে সাভার ট্যানারি এস্টেটের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে সরকার সিইটিপির বর্জ্য শোধন ক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পাটের পর এটি দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হলেও বর্তমানে এটি ধসের মুখে। ২০১৮ সালে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ১.২ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা ৭০০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানের সনদ না থাকায় বিশ্ববাজারের বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট কাটাতে তিনি রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানো, গ্যাস-বিদ্যুতে ভর্তুকি এবং কাঁচা চামড়া পাচার রোধে মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানান।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর পরিবেশগত মানদণ্ড বা কমপ্লায়েন্স ঠিকভাবে না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এর সমাধানে তিনি জানান, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে সাভারে আরেকটি সিইটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রায় এক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষায় এই খাতের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

