৮ হাজার কোটি টাকার মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট: এজেন্সি মালিকদের সম্পদের হিসাব নিচ্ছে দুদক
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে গত চার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে ১০০টি এজেন্সির সঙ্গে জড়িত ২৩২ জনের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই অর্থপাচার ও আত্মসাৎ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে কমিশন এখন তাদের অর্জিত সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি কর্মীর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৯ হাজার টাকা, কিন্তু বাস্তবে তাদের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না, তবে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সিকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করে হাজার কোটি টাকার ভুয়া খাতে পাচার করা হয়।
এই চক্রের বিরুদ্ধে গত বছর মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বায়রা) সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুহুল আমিন স্বপন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা এবং সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন হাজারী। এই মামলার তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবেই তাদের সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়েছে।

