৩৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি
গত তিন যুগের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা শহরে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, ফলে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রে যেতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার রাত থেকেই বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, শোলকবহর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, বাকলিয়া ও পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। রাস্তার পানি ও তীব্র যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। রিকশা ও সিএনজির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বাড়ি থেকে বের হলেও পথে পানি ও যানজটে আটকে দেরি করে হলে ঢোকার উদ্বেগ করেছেন। কেউ কেউ ভেজা পোশাকেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার কারণে সকালে বের হতে হলেও রাস্তাজুড়ে পানি ও যানজটের কারণে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে তাদের প্রচণ্ড বিপাকে পড়তে হয়েছে। একটি সরকারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, প্রতিটি মোড়ে যানজট ও পানির কারণে চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের ওপর প্রকৃতির এই রূঢ় আচরণ মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভেজা অবস্থায় পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নগরবাসীর এই দুর্ভোগ আরও কিছুদিন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

