ঝুলন্ত মামলা সামলাতে ট্র্যাকিং সেবাসহ বড় সিদ্ধান্ত নিল রেলওয়ে
দেশের বিভিন্ন আদালতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন শাখার সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মামলা পরিচালনায় আসবে গতি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথমেই তৈরি করা হবে বিচারাধীন সব মামলার হালনাগাদ তালিকা। ১৫ দিনের মধ্যে আদালত অবমাননার মামলাসহ সব মামলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং এক মাসের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলার তালিকা আইন শাখায় পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের আইন কর্মকর্তাদের। এতে মামলার সংখ্যা, কোন আদালতে মামলা চলছে, তার বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও পরবর্তী করণীয় — সবকিছু নিয়ে গড়ে উঠবে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার।
তালিকার পাশাপাশি চালু হতে যাচ্ছে মামলা ট্র্যাকিং সেবা। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নামে চলমান মামলার তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে সভায়। ফলে কোন মামলার শুনানি কবে, কী আদেশ হয়েছে কিংবা পরবর্তী তারিখ কী — এসব তথ্য দ্রুত জানা সম্ভব হবে। এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের সিনিয়র আইন কর্মকর্তাকে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও আদালত অবমাননার মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয়ে নিয়মিত তদারকি চলবে; প্রয়োজনে জরুরি মামলায় সিনিয়র আইনজীবীও নিয়োগ করা হবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলার পেপারবুক ও নথি মহাপরিচালকের কার্যালয়ের অধীন আইন শাখায় সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শুনানির সময় কাগজপত্র খোঁজার জটিলতা কমে।
প্যানেল আইনজীবীদের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলওয়ে। পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা আইনজীবীদের প্যানেল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। সব পদক্ষেপ কার্যকর হলে রেলওয়ের আইনি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর হবে এবং স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

