শিশুদের নকল সিরাপের কারখানা, মোহাম্মদপুরে কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪:১২ পিএম
শিশুদের নকল সিরাপের কারখানা, মোহাম্মদপুরে কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ

ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে গড়ে তোলা অবৈধ কারখানা থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। শিশুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সিরাপ, প্যাকেজিং উপকরণ ও উৎপাদনের যন্ত্রপাতিও জব্দ হয়েছে এ অভিযানে। চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার এক ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬) নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জব্দ তালিকায় রয়েছে ৮০০টি কিডিকেয়ার সিরাপ প্লাস, ১৯২টি কিডজ ওমেগা লিকুইড, ৭০টি পিডিয়া ভক্স কিড সিরাপ, ১০০ বক্স ল্যাক্টোফ্লেক্স ক্যাপসুল, ৩০০ পাতা ওসিয়ার্ক-সিডি ক্যাপসুল এবং ১০টি নিউট্রামাইড সিরাপ। এর পাশাপাশি নানা ধরনের শ্যাম্পু ও ফেসওয়াশ, সাবানের খালি মোড়ক, ৩০০টি লেবেলবিহীন সিরাপের বোতল, ৫০০টি খালি ক্যাপসুল সেল, পাঁচ কেজি সাদা পাউডার, দুটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, তিনটি সিলিন্ডার এবং লেবেল লাগানোর দুটি সাঁচও উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া কিছু বিদেশি ওষুধ দেশে বৈধভাবে আমদানি হয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ থেকে আনা কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের প্রেসক্রাইব করানো হতো। তিনি বলেন, অনুমোদনহীন ওষুধ কোনো চিকিৎসকই প্রেসক্রাইব করতে পারেন না। তদন্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নাম বেরিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটককারীরা স্বীকার করেছে যে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করছিল। ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটিও তিন মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ডিবি জানিয়েছে, চক্রটি কোথায় কোথায় ওষুধ সরবরাহ করেছে এবং কোনো ডিসপেনসারি, বিক্রয়কেন্দ্র বা চিকিৎসক এর সঙ্গে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...