বেনামে চিঠিতে সহকর্মীদের কালো করতে গিয়ে বরখাস্ত দুদক কর্মকর্তা
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজু মো. সারোয়ার হোসেনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কার্যালয়ে বেনামে চিঠির মাধ্যমে একাধিক সহকর্মীর নামে ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ জাল করার অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ময়মনসিংহের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় রাজু মো. সারোয়ার হোসেন ওই কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার, সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়া ও মো. নুরুল ইসলাম (পিআরএল ভোগরত), সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমানের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করে বেনামে কমিশনে পাঠান বলে প্রমাণ মেলে। জাল অভিযোগের এই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, তার দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ যাচাই করেই অভিযোগ পাঠানোর ঘটনাটি ধরা পড়ে। প্রাপ্ত প্রমাণ কমিশনের কাছে উপস্থাপনের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।
দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮-এর ২(ক)(৪) অনুচ্ছেদে এ ধরনের কাজকে অসদাচরণের আওতাধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বিধিমালার ৪৩(১) বিধি মেনেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্ত সময়কালে তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এদিকে, বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে তার চাকরির ভবিষ্যৎ।

