সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রী-হুইপ রাখায় অসন্তোষ, চিফ হুইপকে স্পিকারের অনুরোধ
জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটি গঠনের সময় প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রকাশ্য উষ্মা দেখিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বেসরকারি সদস্যদেরই দেওয়ার কথা, আর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা থাকবেন নিজেদের সংশ্লিষ্ট কমিটির সাধারণ সদস্য হিসেবে। এই প্রথা ভবিষ্যতে যেন মেনে চলা হয়, সেজন্য চিফ হুইপকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাঁচটি সংসদীয় কমিটি নতুন করে গঠন এবং দুটি কমিটি পুনর্গঠন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। সদস্য তালিকা ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে সোজাসুজি তাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন স্পিকার। নতুন গঠিত পাঁচটি কমিটির চারটির সভাপতি করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদাধারী হুইপদের। এঁরা হলেন—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ জি কে গউছ।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে সদস্য করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। কিন্তু সংসদের দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা কেবল নিজের দায়িত্বের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটিতেই সদস্য থাকেন; এর বাইরে অন্য কোনো কমিটিতে তাদের রাখা হয় না।
চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কমিটির চেয়ারম্যান বেসরকারি সদস্য হওয়া এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সাধারণ সদস্য হিসেবে রাখা—এটি সংসদের চিরাচরিত প্রথা। কয়েকটি কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী, হুইপসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছে। তাতে নিয়মগত বাধা না থাকলেও সংসদের প্রচলিত রীতি অনুসারে বেসরকারি সদস্যদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের সময় এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

