৫৫ বছরে সর্বোচ্চ ৩৭০০ মেগাওয়াট ঘাটতি, ১৫ দিনে স্বস্তির আশ্বাস

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:২৪ এএম
৫৫ বছরে সর্বোচ্চ ৩৭০০ মেগাওয়াট ঘাটতি, ১৫ দিনে স্বস্তির আশ্বাস

দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ নীতি আর আন্তর্জাতিক বাজারের হঠাৎ বিশৃঙ্খলার কারণেই দেশে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভূতপূর্ব সংকট—জাতীয় সংসদে এ কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছুঁয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, যা গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু কথার ফেঁকাসুরি দিয়ে বাস্তবতা ঢাকা যাবে না। জনগণের ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা করেন, কারিগরি ত্রুটি দূর করা এবং সরকারের নতুন উদ্যোগের ফলে ১৫ দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট উন্নতি দেখা যাবে।

গ্যাস পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট। পুরো সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, কিন্তু দেশি উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে এখন দৈনিক মাত্র ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সব গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ বন্ধ করতে হবে বলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য ধরে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও তিনি বলেন।

প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল রয়েছে। এ ছাড়া আদানির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে দিনে মিলছে ৯০০ আর রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। আমদানির এই ঘাটতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...