সিডও সনদ: সংরক্ষণ প্রত্যাহার ও নারী অধিকারের নতুন চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘের নারী বৈষম্য বিলোপ সনদ বা সিডও বাস্তবায়নের পর্যালোচনায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় সিডও সনদের দ্বিতীয় এবং ১৬(১)(গ) ধারার ওপর বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহারের পাশাপাশি নারীর মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ’ (সিআইসি-বিডি)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম ২০২৫ সালে সরকারের জমা দেওয়া সিডও প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই শ্যাডো রিপোর্টে নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মব ভায়োলেন্সের মতো চ্যালেঞ্জগুলো ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মৌলবাদের কারণে নারী অধিকার যে হুমকির মুখে তা তুলে ধরা হয় আলোচনায়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমানে নতুন ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তিনি পরিবেশ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা নারীদের ওপর প্রভাব ফেলার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি ২০২২ সালের অলটারনেটিভ রিপোর্ট এবং ২০২৫ সালের সরকারি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবারের শ্যাডো রিপোর্ট তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

