সিডও সংরক্ষণ প্রত্যাহার ও নারী অধিকারে নতুন বাধা মোকাবিলার দাবি
জাতিসংঘের নারী সনদ (সিডও) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সিডও সনদের ধারা ২ এবং ১৬(১)(গ)-এর ওপর থেকে বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা, পারিবারিক আইনে বৈষম্য, মানবপাচার এবং ধর্মীয় মৌলবাদসহ সমসাময়িক নানা ইস্যু আগামী শ্যাডো রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি)’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ২০২৫ সালে সরকারের জমা দেওয়া সিডও প্রতিবেদন নিয়ে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম। বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ধর্মীয় মৌলবাদ ও পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি অন্যতম। তারা সরকারের আইন বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, প্রতি চার বছর পর পর নাগরিক সমাজ শ্যাডো রিপোর্ট তৈরি করে আসছে। আগামী ২০২৫ সালের এই রিপোর্টে ২০২২ সালের অলটারনেটিভ রিপোর্ট এবং সরকারি প্রতিবেদনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি পরিবেশ, জ্বালানি খাত এবং সিডও সনদের সংরক্ষিত ধারাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি এবারের রিপোর্টে অগ্রাধিকার পাওয়ার ওপর জোর দেন।

