জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে আতঙ্ক, সরকার বলছে কতদিন পার যাবে দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে যে কোনো সংকট নেই। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লম্বা লাইন আর তেল ফুরিয়ে যাওয়ার গুজব সত্ত্বেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সাশ্রয়ী ব্যবহারের লক্ষ্যে গত মার্চ থেকেই রেশনিং শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসে গত বছরের একই পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা থাকে, অর্থাৎ বর্তমান স্টক দিয়ে প্রায় ১১ দিন চলা সম্ভব। এছাড়া অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন। তবে এই সময়ের মধ্যেই নতুন আমদানিকৃত তেলের চালান দেশে এসে পৌঁছালে মজুদের পরিমাণ আবারও বেড়ে যাবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দেশের বার্ষিক চাহিদার বড় অংশ মেটাতে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও চক্রাকারে নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। সরকারের দাবি, ডিজেলে কোনো সংকট নেই, তবে পাচার রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।

