ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থিতিশীলতায় হানা, যুদ্ধের দ্বিধা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে নিজেদের আলাদা রাখতে বহুদিন ধরে যে নীতি মেনে চলেছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান যে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, তার আঘাত এসে পড়েছে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়ে। দোহা, দুবাই এবং মানামার বুকে বোমাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই দেশগুলোর সামনে এখন দুটি কঠিন পথ খোলা হয়েছে। তারা হয় ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে মিলে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, নয়তো নিজ ভূখণ্ডের ধ্বংসলীলা দেখেও চুপচাপ দর্শক হিসেবে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যখন কোণঠাসা হয়ে পড়ে তখন তারা প্রতিবেশীদের জিম্মি করে সংঘাত বাড়াতে বাধ্য হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের ‘সফট পাওয়ার’ বা পর্যটন ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ অঞ্চলের ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির প্ল্যান্টের ওপর হামলা হলে মরুর বুকে বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সরাসরি মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বদলে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজস্ব জোট ‘পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স’ বা জিসিসি’র অধীনে সম্মিলিতভাবে পালটা ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা দিতে পারবে এবং পশ্চিমাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পারবে। তবে এই যুদ্ধে তারা সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী দিনে তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা খোলা রাখে তার ওপর।

