ছয় বছরেই পদ্মাগর্ভে বিলীন ৮ কোটি টাকার সেতু, দিশেহারা এলাকাবাসী
ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে তলিয়ে গেছে মাত্র ছয় বছরের বয়সী একটি সেতু। প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওই সেতুটি রোববার (১১ অক্টোবর) নদীগর্ভে বিলীন হয়।
জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকার এই সেতুটি নির্মিত হয়। দৈর্ঘ্যে ৪০ মিটার আর প্রস্থে ১২ ফুটের সেতুটি সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ছিল। এই সেতু দিয়ে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করতেন।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, দুই মাস আগে শুরু হওয়া ভাঙন গত ১৫ দিনে ভয়ংকর রূপ নেয়। চার দিনের ব্যবধানে সেতুর পূর্ব পাশের সড়ক ধসে পড়ে, এরপর নদীতে তলিয়ে যায় সেতুর পূর্ব অংশ। তার ভাষায়, এ সময়ে আদর্শ গ্রামের ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে, যাবে কমপক্ষে ৮২৫ একর ফসলি জমি। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও তা সেতু বাঁচাতে পারেনি।
ফরিদপুর সদরের ইউএনও মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, সেতু রক্ষায় ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হলেও দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলা ভাঙন ঠেকানো যায়নি। বর্ষার মধ্যে তাই শক্তিশালী কোনো উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০ বছরে এমন তীব্র ভাঙন দেখা যায়নি; নদী ভাঙতে ভাঙতে পুরোনো গতিপথে ফিরে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুটির দুই পাশেই পদ্মার দুটি ধারা এবং দুটিতেই ভাঙন চলছে। নদী ইতোমধ্যে কমপক্ষে ৫০০ মিটার ভেতরে এসেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী ভাঙন রোধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

