রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ: ১০ ফ্লাইট স্থগিত, ৩৪৩১ যাত্রীর ভোগান্তি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা-রিয়াদ রুটে চারটি এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এতে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী নিয়তির ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর জেনেছেন। কেউ বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায়, কেউ পরবর্তী সময়সূচি জানা না গোয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সিলেট থেকে আসা যাত্রী তারেক মনোয়ার জানান, ৯ অক্টোবর রাতে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়, পরদিন বিকেল ৪টার ফ্লাইটও বাতিল হয়। তার ভাষায়, তিনবার বিমানবন্দরে এসে তিনবারই ফিরে যেতে হয়েছে। সিলেট থেকে ৮-১০ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে এসে কী করবেন, তা নিয়েই দ্বিধায় তিনি।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা থাকা খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বিকেল ৫টার ফ্লাইট নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি শুনেছেন ফ্লাইট দুই ঘণ্টা দেরিতে হতে পারে, তবে নিশ্চিত কিছু জানতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। আরেক যাত্রীর অভিযোগ, ১৪ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিয়াদ পৌঁছাতে না পারলে ভিসা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছেন তিনি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি করে এবং সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারলাইন্সের তিনটি করে ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি হামলার পর রিয়াদের বিমানবন্দরে ঢাকাগামী প্রায় চার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। বিমানবন্দর কখন পুনরায় চালু হবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় দুই প্রান্তেই যাত্রীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

