অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করতে যেসব ডকুমেন্ট রাখতে হবে হাতে
আয়কর দাখিল থেকে শুরু করে আর্থিক নানা কার্যক্রমে বাংলাদেশে টিন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রমাণে এই ইউনিক নম্বর ব্যবহৃত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিআইএন পোর্টাল থেকে ঘরে বসেই এই সনদ তৈরি করা যায়। তবে আবেদনের আগে কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা থাকে। এনবিআরের ওয়েবসাইটের আয়কর-সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা অংশে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া আছে।
আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আলাদা। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ই-টিন নিবন্ধনে লাগবে নিজের নাম, বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং এনআইডি অনুযায়ী জন্মতারিখ। অপ্রাপ্তবয়স্ক করদাতার ক্ষেত্রে দিতে হবে তার নাম, অভিভাবকের নাম, অভিভাবকের টিন নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিয়ম ভিন্ন; তাদের আবেদনে জমা দিতে হবে পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, ভিসা নম্বর, ভিসা ইস্যুর তারিখ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি।
টিন সার্টিফিকেট ছাড়া এখন অনেক কাজই আটকে যায়। ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র কেনা, নতুন ব্যবসার লাইসেন্স সংগ্রহ করা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সনদের প্রয়োজন পড়ে। এমনকি ফেসবুক মনিটাইজেশনের আবেদনেও চাওয়া হয় টিন নম্বর। এই সনদের মাধ্যমে সরকার করদাতার আয়, কর পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে।
আবেদনের সময় নাম, বাবা-মায়ের নামের বানান কিংবা জন্মতারিখে ভুল হয়ে যেতে পারে। এমন হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, সাধারণত কোনো ফি ছাড়াই তা সংশোধন করা যায়। এর জন্য এনবিআরের ই-টিআইএন পোর্টালে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বা পুরোনো অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রোফাইল ড্যাশবোর্ডে গিয়ে টিন তথ্যের পাশে এডিট অপশনে ক্লিক করতে হবে। প্রয়োজনে সংশোধনের কারণ উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা অন্য কোনো সরকারি ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হতে পারে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করলেই সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

