নকল ব্র্যান্ড আর ভেজালের দাপটে বিপাকে বাংলাদেশের খাদ্য শিল্প

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:৩৭ এএম
নকল ব্র্যান্ড আর ভেজালের দাপটে বিপাকে বাংলাদেশের খাদ্য শিল্প

দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে এগিয়ে নিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেজাল, নকল পণ্য এবং আইনের ফাঁক গলানোর প্রবণতা। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নকল সংস্করণ বাজারে আসা এবং অতিরিক্ত লাভের লোভে খাবারে অমিশ্রণ মেশানো—এসব বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর ১১তম আসরে ‘বাংলাদেশ ফুড ইন্ডাস্ট্রি: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক টেকনিক্যাল সেশনে এই চিত্র উঠে আসে। সেশনে মূল প্রবন্ধ পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন।

অধ্যাপক মামুন বলেন, কোনো পণ্য বাজারে জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিঞ্জিরা থেকে সেই পণ্যের নকল উৎপাদনের কারবার শুরু হয়ে যায়। অভিন্ন ধরনের প্যাকেট ব্যবহার করে প্রায় একই রকম পণ্য বানানোর ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। পাশাপাশি নামের বানানে সামান্য হেরফের এনে অন্য প্রতিষ্ঠানের আদলে পণ্য তৈরি করে লাইসেন্সও পেয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে প্রকৃত ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বেশি মুনাফার আশায় খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে এখনো প্রচলিত ধারণা—বাংলাদেশের খাবার মানেই ভেজাল। সবকিছুতেই ভেজাল এমন মনোভাব খাতটিকে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই অবিশ্বাস দূর করতে হলে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য।

খাদ্য পরিদর্শন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক মামুন বলেন, সারা বিশ্বে ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) পরিদর্শন পদ্ধতি চালু হয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনো শেষ-পণ্যভিত্তিক ব্যবস্থায় আটকে আছে। তার ভাষায়, দেশে যতটা ফুড ইন্সপেকশন হয়, তার চেয়ে বেশি হয় হয়রানি। কাউকে বিপদে ফেলা কোনোভাবেই সৎ উদ্দেশ্যের প্রকাশ হতে পারে না।

সেশনে আলোচক হিসেবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক মিস উজমা চৌধুরী বলেন, পণ্যভেদে ফুড সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল। উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক সময় সঠিক কৌশল সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতি থেকে যায়, তাই চেষ্টার কোনো পরিসমাপ্তি নেই।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাবারে ভোক্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নকল পণ্য প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ছাড়া বিকল্প নেই। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা না গেলে দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্ভাবনা দুটোই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...