গ্রুপ পর্বেই রেকর্ড বন্যা: ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোরা যা করলেন
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করায় ২০২৬ সালের আসরটি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। গ্রুপ পর্বের ১৭ দিনে ৭২টি ম্যাচ শেষে এমন এক আসর উপহার দিয়েছে যা দর্শক উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম একমাত্র ভেন্যু হিসেবে তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের বিরল কীর্তি অর্জন করেছে, যা আগে কেউ করতে পারেনি।
আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি এই আসরে একাধারে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পিছনে ফেলেন এবং টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েন। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি হয়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড়। এছাড়া জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিকে গোল করে টানা সাত ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়েছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও নিজের ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করে এই পর্তুগিজ তারকা প্রমাণ করেছেন ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও তিনি অমরণীয়। এদিকে কুরাসাওয়ের কোচ ডিক অ্যাডভোকাট ৭৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে এবং দলটির গোলরক্ষক এলয় রুম এক ম্যাচে ১৫টি সেভ করার রেকর্ড গড়েছেন।
এবারের আসরে দর্শক উপস্থিতিও হয়েছে অভাবনীয়। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের রেকর্ড ভেঙে এবার গ্রুপ পর্বে ৩৬ লাখেরও বেশি দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে এক ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম। এক কথায়, নকআউট পর্ব শুরুর আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপ রেকর্ড বইয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

