চাকরির লোভে রাশিয়ায় পাচার, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৪৪ পিএম
চাকরির লোভে রাশিয়ায় পাচার, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির

রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে দেশ থেকে পাচার করেছে একটি সংগঠিত মানবপাচার চক্র। ওই দেশে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি করিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চক্রের মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানাধীন আটাইল এলাকা থেকে মিজানুর রহমান এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ এলাকা থেকে আবু তাহের লেন্টুকে ধরা হয়।

এসআরবি কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা পারস্পরিক যোগসাজসে ভুক্তভোগী রাজন হোসেনের (২১) কাছ থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নির্মাণ কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে রাশিয়ায় পাঠায়। গত ৭ মে সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বাধ্য করে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। টানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে রাজনসহ ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে নামানো হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় তার কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন কষ্টের মধ্য দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন রাজন। পরে আহত অবস্থায় পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

ক্ষতিপূরণ দাবি করতে গেলে মিজানুর রহমান ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করে, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চক্রের হোতা মিজান জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির চেয়ারম্যান।

আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার কৌশল হিসেবেই এই বাংলাদেশিদের যুদ্ধময়দানে শিকার হিসেবে পাঠানো হতো। তাদের ওপর ড্রোন হামলা হলে সেখান থেকে আক্রমণকারীদের অবস্থান ও দূরত্ব হিসাব করা হতো। যুদ্ধে নামানো ৩০ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জন মারা গেছেন, ২ জন কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে ২ জন আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাকি ৬ জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...