২০৩০ লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা: জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পিছিয়ে বাংলাদেশ
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিআরভিএস আঞ্চলিক কর্মসূচির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনা এক বছরের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে উল্টো দিকে সরে যাচ্ছে দেশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে এক বছরের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জন্ম নিবন্ধন বেড়ে ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে জন্ম নিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশে এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমে আসে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন বলেন, নিবন্ধনের হার কমার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে এখনই নির্দিষ্ট কোনো কারণ চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্ন স্তরে গঠিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্সগুলোকে আরও সক্রিয় করে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল এই অবনতির অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে থাকতে মাঠপর্যায়ে ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ঘটনাও ঘটছিল। সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় নিবন্ধনের হার কমেছে বলে তারা মনে করেন। ২০৩০ সালের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সময় থাকলেও এই পতনের ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

