ভাইভায় নম্বর বাড়ানোয় কারসাজির সুযোগ বেশি, মেনে নিলেন ডা. জাহেদ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:৫৭ পিএম
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোয় কারসাজির সুযোগ বেশি, মেনে নিলেন ডা. জাহেদ

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নয়নের উদ্যোগ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তবে ভাইভা তুলনামূলকভাবে বিষয়ভিত্তিক ও ব্যক্তিনির্ভর হওয়ায় এতে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি—এ কথাও একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন তিনি।

বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে এই গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে ভাইভার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি কি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি ‘পারসেপশন’ কাজ করছে। তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, সরকার কি দুর্নীতির উদ্দেশ্যে কিংবা নিজেদের পছন্দের মানুষকে নিয়োগ দিতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে? সাংবাদিকরা যেন সরাসরি এমন প্রশ্ন করেন, সেই চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নের জবাব দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

ভাইভায় নম্বর বেশি রাখা হলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা প্রার্থী পিছিয়ে পড়তে পারেন—এমন যুক্তির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষা সাবজেকটিভ হওয়ায় তাতে পক্ষপাত বা কারসাজির সুযোগ তুলনামূলক বেশি, এ ব্যাপারে তাঁর দ্বিমত নেই। তবে চাকরির জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রার্থীর সহজাত দক্ষতা ও অ্যাপটিটিউডও বিবেচনায় নিতে হয়—এই যুক্তিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা টেনে জাহেদ জানান, বেশ কয়েকটি বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে তিনি বসেছেন। লিখিত ফলাফল না দেখেই এমন কিছু প্রার্থীর মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের লিখিত নম্বর তেমন ভালো না হলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রশাসক হিসেবে চাকরি ভালোভাবে করার জন্য রিটেনে দক্ষতার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু অ্যাপটিটিউড দরকার, যা ভাইভার মাধ্যমে ভালো অ্যাসেসমেন্ট সম্ভব।

মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়মের ঝুঁকি থাকলে তা নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন এই উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্য, এই মার্কিং কাঠামোর মাধ্যমেই আরও ভালো নিয়োগ সম্ভব এবং সরকার আইনগতভাবেই সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছে। নিয়োগের পর সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পেলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে তা ঠেকাতে হবেই। লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশের বিধান করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...