৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতির স্বীকারোক্তি সংসদে, উন্নতির আশ্বাস ১৫ দিনে

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:৩৭ এএম
৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতির স্বীকারোক্তি সংসদে, উন্নতির আশ্বাস ১৫ দিনে

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছুঁয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, যা গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই অভূতপূর্ব সংকটের জন্য তিনি দেড় দশকের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ দেখা দেওয়া অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দরকার। অথচ দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে এখন দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে সবটুকু গ্যাস বরাদ্দ দিলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক ব্যবহারকারীদের সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে বলে জানান তিনি। তাই অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি — এই তিন খাতের মধ্যে বাধ্য হয়ে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

সংকটের আরও কারণ হিসেবে তিনি কারিগরি ত্রুটি ও আমদানি ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট এ মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। এর বাইরে আদানির সঙ্গে হওয়া পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দিনে মিলছে ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।

কথামালার আড়ালে সত্য গোপন করার কোনো সুযোগ নেই বলে সংসদে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী। জনগণের অনাকাঙ্ক্ষিত ও সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা করছেন, কারিগরি সমস্যা নিরসন এবং সরকারের নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যাবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...