ভোলার চরে খাসজমি উদ্ধারে স্পিকার ও ভূমিমন্ত্রীর যৌথ সফর
চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জোর করে জমি দখলের প্রথা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের খাসজমি বেদখল করার অবসান ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান। একইসঙ্গে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরার বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখতে স্পিকারকে সাথে নিয়ে ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
নোটিশে এমপি নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশে সরকারি হিসাবে প্রায় ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ একর খাসজমি থাকলেও তার একটি বড় অংশ প্রভাবশালীদের দখলে। বিশেষ করে তার নির্বাচনি এলাকা চরফ্যাশন ও মনপুরায় গত ১৬ বছরে নদীভাঙন কবলিত মানুষ চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে ভূমিহীনদের জমি বেদখল করা হয়েছে। এমপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক বলে স্বীকার করেন ভূমিমন্ত্রী এবং তাকে যুবসমাজের প্রতিবাদী নেতা হিসেবে অভিহিত করেন।
ভূমি মন্ত্রী জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে সারাদেশে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চরফ্যাশন ও মনপুরা সফরের মাধ্যমে সব অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা জনগণকে উপহার দেওয়া হবে। এসময় স্পিকার বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ভোলা-৩ আসনে ২০ হাজার কৃষককে খাসজমি দেওয়া হয়েছিল। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় খাসজমি উদ্ধারে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং সময় সুযোগ হলে ভূমিমন্ত্রীর এই সফরে তিনিও অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

