রাজবাড়ীর পাংশায় মহাশ্মশান কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মো. আকাশ মাহমুদ, পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২:১৯ পিএম
রাজবাড়ীর পাংশায় মহাশ্মশান কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের হাটবনগ্রাম বাজার সংলগ্ন নাওড়া বনগ্রামের বারপল্লী মহাশ্মশান কালীমন্দিরে দুর্বৃত্তদের হামলায় একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মহাশ্মশানের ছাদযুক্ত পাকা মন্দিরটি বাইরে থেকে গ্রিল দিয়ে তালাবদ্ধ ছিল। সেই অবস্থায় দুর্বৃত্তরা গ্রিলের ফাঁক দিয়ে লাঠি বা শক্ত কোনো বস্তু ঢুকিয়ে শ্মশান কালী, মহাদেব, সর্প ও ডাকিনী-যোগিনী প্রতিমার মুখমণ্ডলে আঘাত করে ভাঙচুর চালায়। এতে বিশেষ করে কালী ও মহাদেব প্রতিমার মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা কালিপদ বর্মণের স্ত্রী মমতা বর্মণ (৬০) পূজা দিতে এসে প্রতিমাগুলোর ভাঙচুর অবস্থাটি প্রথম দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ভক্তবৃন্দ মন্দিরে উপস্থিত হন।

খবর পেয়ে রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ (বিপিএম-সেবা), সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার এবং পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।

পাংশা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, শ্মশান এলাকায় হওয়ায় মন্দিরটিতে কোনো পাহারাদার কিংবা সিসি ক্যামেরা নেই। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা প্রতিমাগুলোর মুখ বিকৃত করেছে। অতীতে এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, “যারা এই কাজ করেছে তারা মানবিক মূল্যবোধহীন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমন কাজ করেছে।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, “ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। স্থানীয় পূজারীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। শ্মশান কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিমাগুলো বিসর্জন দিয়ে নতুন করে প্রতিমা নির্মাণ করা হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বারপল্লী মহাশ্মশান কালীমন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ বীর কান্ত মণ্ডল জানান, এ ঘটনায় আইনের সহায়তা নিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভাঙা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। পাশাপাশি এলাকায় উদ্বেগ ও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...