ঢাকায় মিশন খুলবে কেনিয়া, বাংলাদেশি ওষুধের প্রতি বাড়ল আগ্রহ
আফ্রিকার দেশ কেনিয়া বাংলাদেশের ওষুধ খাতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। একই সঙ্গে ঢাকায় স্থায়ী আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ ও কেনিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের তৃতীয় দফা পরামর্শ সভায়।
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলির সচিব ড. নজরুল ইসলাম। কেনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়াবলির মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জোসফাত মাইকারা। দুই দেশের চতুর্থ দফা পরামর্শ সভা আয়োজিত হবে ২০২৮ সালের অক্টোবরে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু ইকোনমি, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ নানা বিষয়ে মতবিনিময় হয়। দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও প্রসার, ব্লু ইকোনমি এবং চুক্তিভিত্তিক কৃষি সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করতে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
বৈঠকে বাংলাদেশ ওষুধ, তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্যে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে। কেনিয়া বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ আরও বেশি আমদানির ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কেনিয়ায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানায়। পাশাপাশি কফি, শিম, তুলা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির আগ্রহও দেখায় দেশটি।
জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মতো বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদার ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে দুই দেশ। কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

