আত্মহত্যার প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার দাবি বিশেষজ্ঞদের
আত্মহত্যাকে ঘিরে সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে আত্মঘাতী প্রবণতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাধ্যমে মোকাবিলা করার সুপারিশ করেছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সংগঠনের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন অবস্থান ব্যক্ত করেন।
বক্তারা মনে করেন, আত্মঘাতী প্রবণতাকে জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসতে হবে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী কিংবা সহকর্মী হিসেবে কারো মধ্যে আত্মহত্যার ইঙ্গিত বা সতর্কসংকেত চোখে পড়লে প্রথমেই তার সঙ্গে সাড়া দিতে হবে, সহানুভূতি নিয়ে কথা শুনতে হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব টেনে জানান, পৃথিবীতে প্রতি বছর সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যার শিকার হন। বৈশ্বিক আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রত্যেক মানুষের অধিকার। তাই আত্মঘাতী প্রবণতার বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের (বিটিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, ধারণার বদল আনতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন দরকার। এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে সওয়াল করতে হবে, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারিত করে এবং বিপদের মুহূর্তে সহায়তা নিশ্চিত করে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন অতিক্রম করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে সমাপ্ত হয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিয়োজিত বিটিএফের উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

