প্রতিবন্ধীদের সেবায় বড় পরিবর্তন: ২ কোটি মানুষের জন্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা
দেশের প্রায় দুই কোটি প্রতিবন্ধী নাগরিকের অধিকার আদায় ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটি’র এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সভাপতিত্বে এ সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে চালু হওয়া ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক হাজার প্রতিবন্ধী শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচিটি ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য একটি করে নির্দিষ্ট ফাইল তৈরি করা হবে, যাতে তাদের চাহিদাসমূহ উল্লেখ থাকে এবং প্রয়োজনে তাদের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে রেফার করা যায়।
প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার্থে সরকারি স্থাপনাগুলোকে আরও ব্যবহারবান্ধব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অধীনে ভবিষ্যতে সব সরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যাম্প, লিফট ও বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা কমিশন নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি আগামীতে চালু হতে যাওয়া ইলেকট্রিক বাসগুলোতেও হুইলচেয়ার ব্যবহারের সুযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০টি জেলায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিসের’ মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তা প্রদানের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের অভিভাবকরাও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য আলাদা সেগমেন্ট তৈরি ও তাদের ভাতা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সমাজের মূল ধারায় সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

