গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ: রাস্তা ফাঁকা হলেও ফুটপাতে ভোগান্তি অব্যাহত

রাজধানীর গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উচ্ছেদ অভিযানের পর পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকা প্রধান সড়কগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। এর ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং পথচারীরা হাঁটার পথ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। তবে হকাররা সরে গেলেও তাদের ব্যবহৃত টেবিল, বেঞ্চ ও ছাউনির মতো অবকাঠামো ফুটপাতে ফেলে রেখে যাওয়ায় নাগরিকদের ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।
গুলিস্তান মোড় থেকে মাজার রোড পর্যন্ত এলাকা এখন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু কৌশলে অনেকেই রাস্তার দুই পাশে বসে পণ্য বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সামনে ফলের দোকান, গুলিস্তান সুপার মার্কেটের সামনে নতুন নোট বিক্রেতা এবং ঢাকা ট্রেড সেন্টারের পশ্চিম পাশের ফুটপাত এখনও হকারদের দখলে রয়েছে। এছাড়াও সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে ফ্লাইওভারের নিচে জুতার দোকান এবং বায়তুল মোকাররম ও স্টেডিয়াম এলাকায় হকারদের অবকাঠামো স্তূপ করে রাখায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা যাত্রী মাজহারুল ইসলাম রাস্তা ফাঁকা দেখে খুশি হলেও অবকাঠামো থাকায় আবার দখল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সুযোগ বুঝে তারা আবার দখল নেবে। অন্যদিকে পুরান ঢাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন মনে করেন, উচ্ছেদ অভিযান চালানো সহজ হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কঠিন। তিনি বলেন, অভিযানের পর নজরদারি না থাকলে একদিনের মধ্যেই হকাররা আবার বসে যাবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন সচেতন নগরবাসী।

