জামায়াতি আদর্শের বিস্তারের অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫১ এএম
জামায়াতি আদর্শের বিস্তারের অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দলের আহ্বায়ক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি চান। তার মূল অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে ওঠা জোটের ফলে দলটির কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জামায়াতি আদর্শ প্রভাব বিস্তার করেছে। পদত্যাগপত্রটি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতেও প্রকাশ করেছেন।

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে তিনি গর্ববোধ করতেন। দলের ঘোষিত লক্ষ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনাই তাকে এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে দলের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোটের কারণে এনসিপি নিজের ঘোষিত আদর্শ থেকে সরে গেছে বলে তিনি মনে করেন। ‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না’—এই বিশ্বাস নিয়ে দলে থাকলেও দিন দিন দ্বিচারিতা বেড়েছে এবং রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিক জোটের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে বলে তার প্রতিক্রিয়া। জামায়াত প্রশ্নে দলের বহু প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বও এনসিপি ছেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই নেতা। ঐতিহাসিক বিষয়ে নিজের মতামত দেওয়ার জন্য তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, এমন আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে এবং অন্দরমহলে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন দল ও ব্যক্তির শাসনামলকে আলাদা দুই অধ্যায় হিসেবে দেখার পক্ষে তার অবস্থান জানান তিনি। তবে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থান জামায়াত-শিবিরের বয়ানের সঙ্গে মিশে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব কারণে এনসিপির সঙ্গে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আবদুর রহমান পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ করেছেন। তবে দলটি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...