রাজনীতি নয়, ৫০৩ উপজেলার সুষম উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য: মঈন খান

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১১ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৪৫ এএম
রাজনীতি নয়, ৫০৩ উপজেলার সুষম উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য: মঈন খান

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন, কোনো এলাকার মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সব উপজেলার জনগণের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চায় সরকার। জনগণের ভোটে দায়িত্বে থাকা সরকার হিসেবে প্রতিটি অঞ্চলের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানটির বিষয় ছিল সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ৫০৩টি উপজেলা থাকায় উন্নয়নে ভারসাম্য রাখা অপরিহার্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি উপজেলাকে এমন কোনো সুবিধা দেওয়া উচিত নয়, যা পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দারা বঞ্চিত থাকেন। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের কার্যকর অবদান রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তারা শুধু চাকরিজীবী নন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের কাজের মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার বেতন-ভাতা সমন্বয় করেছে। সীমিত সম্পদের কারণে সব দাবি একবারে পূরণ সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। মূল্যস্ফীতির আলোকে প্রতিবছর বেতন সমন্বয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করেছেন বলেও জানান তিনি।

সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে বলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। সৌরশক্তির যথাযথ প্রয়োগ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে, খরচ কমাবে এবং জীবনমানের উন্নতিতে সহায়ক হবে। এজন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমবায় খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি থাকলেও শুধু সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেগুলোকে জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান ড. মঈন খান।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...