ইউরোপে বাংলাদেশি রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানি: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জানিয়েছেন, ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং স্বাধীনতার শুরু থেকেই জার্মান সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে বলে প্রশংসা করেন।
সাক্ষাৎকালে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তাঁর ভাষায়, ১৯৩৭ সাল থেকে এ দেশে নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ছিল সীমিত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পরপর তিনটি প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল, যা দেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে।
স্বৈরাচারি আমলের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, এরপর গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অবদান অনুসরণীয়। দেশের মানুষ বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে, তাঁদের দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামের ফলেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে জানিয়ে স্পিকার বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৬ জন নারী সংসদ সদস্য ছাড়াও ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
এদিকে, জার্মান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির বিস্তার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় স্পিকার জানান, মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সৌজন্য সাক্ষাতে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

